বেকারত্ব দূর করতে দারুণ সুযোগ! ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সহায়তায় শুরু করুন ওষুধের ব্যবসা

Please Share With Your Friends

বর্তমান যুগে নিজের ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করছেন কিন্তু মূলধনের অভাব বোধ করছেন? কেন্দ্র সরকার আপনার পাশে রয়েছে! কেন্দ্রীয় সরকারের রাসায়নিক ও সার মন্ত্রকের অধীনস্থ ফার্মাসিউটিক্যালস অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইস ব্যুরো অব ইন্ডিয়া (PMBI) পরিচালিত প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি পরিযোজনা (PMBJP)-র মাধ্যমে কম খরচে একটি জেনারেটিক ওষুধের দোকান অর্থাৎ ‘জন ঔষধি কেন্দ্র’ খুলে আপনি মাসে মোটা টাকা উপার্জন করতে পারেন।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ৫০% থেকে ৯০% পর্যন্ত সুলভ মূল্যে মানসম্পন্ন ওষুধ সরবরাহ করা হয়। দোকান চালুর সুবিধার্থে সরকার বিশেষ ক্ষেত্রে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা এবং সামগ্রিকভাবে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইনসেনটিভ প্রদান করছে!

💰 সরকারি আর্থিক সহায়তা ও ইনসেনটিভের কাঠামো

জন ঔষধি কেন্দ্র খোলার পর ব্যবসার স্থায়িত্ব ও উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার দু’ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকে:

১. ২ লক্ষ টাকার স্পেশাল গ্রান্ট (এককালীন সরকারি সাহায্য)

নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির আবেদনকারীদের দোকান প্রস্তুত করার খরচ হিসেবে এককালীন ২,০০,০০০ টাকা দেওয়া হয়:

  • ফার্নিচার ও ফিক্সচার খরচ: ১,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত ফেরত (Reimbursement)।
  • কম্পিউটার, প্রিন্টার ও ইন্টারনেটের খরচ: ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত ফেরত।

কারা পাবেন এই ২ লক্ষ টাকা?

মহিলা উদ্যোক্তা, এসসি/এসটি (SC/ST), বিশেষভাবে সক্ষম (Divyangjan), প্রাক্তন সেনাকর্মী এবং নীতি আয়োগ ঘোষিত দেশের ‘আকাঙ্ক্ষী জেলা’ (Aspirational Districts) বা উত্তর-পূর্বাঞ্চল/পার্বত্য অঞ্চলের উদ্যোক্তারা।

২. সাধারণ ইনসেনটিভ (সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত)

  • প্রতি মাসে PMBI থেকে কেনা ওষুধের মূল্যের উপর ২০% ইনসেনটিভ পাওয়া যায় (প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত)।
  • এটি সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা সীমা পর্যন্ত প্রদান করা হয়।
  • ওষুধ বিক্রির পর খুচরো বিক্রেতা বা দোকান মালিক হিসেবে ওষুধের এমআরপি (MRP)-র উপর সরাসরি ২০% ট্রেড মার্জিন (লাভ) থাকবে।
See also  বাংলায় ২১০০ কোটির বিনিয়োগে টাটা গোষ্ঠী, ইস্পাত ও টেক্সটাইল কারখানায় খুলবে চাকরির দুয়ার

📋 যোগ্যতা ও আবেদনের শর্তাবলি

জন ঔষধি কেন্দ্র খোলার জন্য আপনাকে নিচের মৌলিক শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:

বিষয়শর্ত / বিবরণ
আবেদনকারীর যোগ্যতাবি. ফার্মা (B.Pharm) বা ডি. ফার্মা (D.Pharm) ডিগ্রি থাকতে হবে। নিজের না থাকলে একজন ডিগ্রিধারী ফার্মাসিস্ট নিযুক্ত করতে হবে।
দোকানের জায়গান্যূনতম ১২০ বর্গফুট জায়গা থাকতে হবে (নিজের বা ভাড়ায় নেওয়া)।
আবেদন ফিসাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ₹৫,০০০। (মহিলা, SC/ST, বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য এই ফি মকুব)।
আবেদনকারী সংস্থাব্যক্তি ছাড়াও এনজিও (NGO), ট্রাস্ট, ফার্ম, স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আবেদন করা যায়।

📄 প্রয়োজনীয় নথিপত্র (Documents Required)

আবেদন করার সময় যে নথিগুলি স্ক্যান করে জমা দিতে হবে:

  1. ব্যক্তিগত পরিচয়পত্র: আধার কার্ড ও প্যান কার্ড।
  2. শিক্ষাগত যোগ্যতা: ডি.ফার্মা বা বি.ফার্মাসি সার্টিফিকেট ও রাজ্য ফার্মেসি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন।
  3. জায়গার প্রমাণপত্র: জায়গার ক্রয়ের দলিল বা ন্যূনতম ৫ বছরের লিজ/রেন্ট এগ্রিমেন্ট এবং লে-আউট প্ল্যান।
  4. অন্যান্য নথি: ব্যাংক পাসবই/ক্যান্সেলড চেক, পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং এসসি/এসটি/বিশেষভাবে সক্ষম প্রমাণপত্র (যদি প্রযোজ্য হয়)।
  5. ড্রাগ লাইসেন্স: অফার লেটার (Approved Store Code) পাওয়ার পর রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল থেকে ড্রাগ লাইসেন্স নিতে হবে।

💻 অনলাইনে আবেদন করার সহজ পদ্ধতি (Step-by-Step Process)

জন ঔষধি কেন্দ্রের জন্য পুরো আবেদন প্রক্রিয়াই অনলাইনে সম্পন্ন করা যায়:

  1. অফিসিয়াল পোর্টালে যান: আপনার ব্রাউজার থেকে janaushadhi.gov.in ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
  2. রেজিস্ট্রেশন করুন: হোমপেজে থাকা ‘Apply for Kendra’ বিকল্পে ক্লিক করে ‘Register Now’ অপশন বেছে নিন।
  3. প্রোফাইল তৈরি: আপনার নাম, ইমেল আইডি, মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন।
  4. আবেদন ফরম পূরণ: ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে ‘PMBJK Application Form’ খোলে নিখুঁতভাবে সমস্ত তথ্য পূরণ করুন।
  5. নথি আপলোড ও ফি প্রদান: প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট স্ক্যান করে আপলোড করুন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ₹৫,০০০ ফি অনলাইন পেমেন্ট করুন।
  6. সাবমিট: ফরম সাবমিট করার পর অ্যাপ্লিকেশন ট্র্যাকিং নম্বরটি ভবিষ্যৎ ব্যবহারের জন্য লিখে রাখুন।
See also  ইথানল মেশানো পেট্রল ব্যবহার করলে কি গাড়ির ইনশিওরেন্স ক্লেম আটকে যাবে? বিভ্রান্তি দূর করল কেন্দ্র

💡 আয় এবং লাভ কেমন হতে পারে?

জন ঔষধি কেন্দ্রে ২,১০০টিরও বেশি ওষুধ এবং ৩০০টিরও বেশি চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সার্জিক্যাল সামগ্রী পাওয়া যায়। বাজারে ব্র্যান্ডেড ওষুধের আকাশছোঁয়া দামের কারণে বর্তমানে বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ সরকারি জেনারেটিক ওষুধের দিকে ঝুঁকছেন।

  • দোকান ঠিকঠাক জমে উঠলে মাসে গড়ে ২ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকার ওষুধ বিক্রি করা সম্ভব।
  • বিক্রির ওপর সরাসরি ২০% লাভ হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় ৪০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা খুচরো লাভ অর্জিত হয়।
  • এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি মাসের সর্বোচ্চ ২০,০০০ টাকা ইনসেনটিভ যুক্ত হলে প্রারম্ভিক সময়েই মাসে ৫০,০০০ থেকে ৭০,০০০ টাকা সহজে আয় করা সম্ভব।

কম পুঁজিতে স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ নিজের ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র এক অত্যন্ত সম্ভাবনাময় সুযোগ। আপনি যদি যোগ্য হন, তবে আজই প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে অফিশিয়াল পোর্টালে আবেদন নিশ্চিত করতে পারেন।

Author


Please Share With Your Friends