রাজ্যে কেন্দ্র সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat) প্রকল্প কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি, যারা নির্দিষ্ট শর্তাবলীর কারণে এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না, তাঁদের জন্য নতুন প্রকল্প আনল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা করেছে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’ (Mukhyamantri Swasthya Bima Yojana)। এই নতুন স্বাস্থ্যবিমা যোজনার মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলি বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবেন।
নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে মূলত ২০১১ সালের সামাজিক-অর্থনৈতিক আদমশুমারি (SECC) এবং কিছু নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ও পেশাগত মাপকাঠির ভিত্তিতে সুবিধাভোগী বাছাই করা হয়। এর ফলে রাজ্যের বহু মধ্যবিত্ত ও সাধারণ পরিবার আয়ুষ্মানের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছিল। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই রাজ্যের এই নিজস্ব স্বাস্থ্যবিমা উদ্যোগ।
কী কী সুবিধা মিলবে এই প্রকল্পে?
- ক্যাশলেস চিকিৎসা: পরিবারের চিকিৎসা খরচে বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তা পাওয়া যাবে।
- বিস্তৃত পরিধি: রাজ্য ও রাজ্যের বাইরের তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে এই কার্ড ব্যবহার করে চিকিৎসা করানো যাবে।
সুবিধাপ্রাপ্তির প্রধান শর্ত ও বর্জন তালিকা (কারা পাবেন না)
প্রকল্পের অপব্যবহার রোধে এবং প্রকৃত দূরদর্শী সাহায্য পৌঁছে দিতে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে কিছু কড়া শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। যে সমস্ত পরিবার নিম্নোক্ত তালিকার অন্তর্ভুক্ত, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না:
- আয়ের সীমার বাইরে: যে সকল পরিবারের বার্ষিক আয় ৮ লক্ষ টাকা বা তার বেশি, তাঁরা এই বিমার জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
- সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী:
- রাজ্য সরকারি স্বাস্থ্য স্কিমের (West Bengal Health Scheme) আওতাভুক্ত কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মী।
- কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য স্কিমের (CGHS) সুবিধাভোগী কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মী।
- অন্যান্য বিমা বা ভাতা: যাঁরা অন্য কোনো গ্রুপ মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্সের (Group Medical Insurance) সুবিধা পান কিংবা সরকারি নিয়মে মাসিক চিকিৎসা ভাতা (Medical Allowance) গ্রহণ করেন, তাঁরাও এই যোজনার বাইরে থাকবেন।
- আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধাভোগী: যাঁরা ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন, তাঁরা দ্বিতীয়বার এই রাজ্য বিমার সুবিধা পাবেন না।
আবেদন প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
নবান্ন জানিয়েছে, শীঘ্রই নতুন পোর্টাল ও নির্দেশিকা জারির মাধ্যমে এই বিমা কার্ডের আবেদন গ্রহণ ও নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের স্বাস্থ্য সুরক্ষার পরিধি এক অভূতপূর্ব মাত্রায় প্রসারিত হলো।
