মাঠে মাঠে এবার নারীদের জয়জয়কার: ‘কৃষি সখী’ প্রকল্পে বদলাচ্ছে গ্রাম বাংলার অর্থনৈতিক ছবি!

গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এবং কৃষিকাজে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়াতে পশ্চিমবঙ্গে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে ‘কৃষি সখী’ (Krishi Sakhi) প্রকল্প। গ্রামীণ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) মহিলাদের আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা, জৈব চাষ এবং রাসায়নিক মুক্ত চাষাবাদে দক্ষ করে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

কৃষি দপ্তর ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বাছাই করা মহিলাদের বিশেষ কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে উত্তীর্ণ মহিলাদের ‘প্যারা-এক্সটেনশন ওয়ার্কার’ (Para-extension Workers) বা কৃষিসাহায়ক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।

প্রশিক্ষণে কী কী শেখানো হচ্ছে?

  • জৈব ও প্রাকৃতিক চাষ: রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের প্রয়োগ কমিয়ে কীভাবে পরিবেশবান্ধব জৈব চাষ করা যায়, সেই বিষয়ে প্রাকটিক্যাল প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
  • মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা: মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড (Soil Health Card) বোঝা ও মাটির নমুনা সংগ্রহের কৌশল।
  • বীজ ব্যাংক ও সংরক্ষণ: উন্নত মানের বীজ তৈরি, সংরক্ষণ এবং নিজস্ব বীজ ব্যাংক গড়ে তোলার নিয়মাবলী।
  • আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি: কৃষি ক্ষেত্রে আধুনিক যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার ও ফার্ম মেকানাইজেশন সংক্রান্ত পরামর্শ।

কী কী সুবিধা পাবেন মহিলারা ও স্থানীয় চাষিরা?

লাভবান শ্রেণীপ্রাপ্ত সুবিধা
কৃষি সখী (মহিলাদের জন্য)• বিশেষ সরকারি শংসাপত্র ও স্বীকৃতি।
• বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের মাঠপর্যায়ে কাজ করে নির্দিষ্ট ভাতা/উপার্জনের সুযোগ।
• অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও গ্রামীণ স্তরে নেতৃত্বের সুযোগ।
স্থানীয় চাষিদের জন্য• সরাসরি নিজেদের এলাকায় বিনামূল্যে বা কম খরচে কৃষি বিষয়ক পরামর্শ।
• জৈব সার তৈরি ও কীটনাশকমুক্ত ফসল ফলানোর সহজ কৌশল শিক্ষা।
• সরকারী বীজ ও ভরতুকিযুক্ত কৃষি যন্ত্রপাতির তথ্য প্রাপ্তি।

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পর্যায়ক্রমে এই প্রশিক্ষণের মাত্রা বাড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের কাজের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে বিষমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা।

Leave a Comment