অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বড় স্বস্তি: ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে চালু হচ্ছে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ‘ই-পেনশন’ ব্যবস্থা

রাজ্যের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের হয়রানি দূর করতে এবং পেনশন দেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুত করতে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে পুরোদমে চালু হতে চলেছে হালনাগাদ ডিজিটাল ‘ই-পেনশন’ (e-Pension) পোর্টাল ব্যবস্থা। এর ফলে অবসর গ্রহণের পরই মাসের পর মাস ফাইল জটের কারণে পেনশনের টাকার জন্য অপেক্ষা করার দিন শেষ হতে চলেছে।

অনলাইন পোর্টালে কাজের গতি ও স্বচ্ছতা

অর্থ দপ্তরের অধীনস্থ ‘ডিরেক্টরেট অব পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যান্ড গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স’ (DPPG)-এর উদ্যোগে তৈরি এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন জমা থেকে শুরু করে পেনশন পেমেন্ট অর্ডার (e-PPO) ইস্যু করা পর্যন্ত সমস্ত কাজ হবে সম্পূর্ণ কাগজবিহীন (Paperless) ও অনলাইনে। এর ফলে প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা আসবে এবং লাল ফিতের ফাঁশ কাটবে।

ই-পেনশন ব্যবস্থার প্রধান সুবিধা ও বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও আপডেট: আবেদনকারী এসএমএস (SMS) এবং ই-মেইলের মাধ্যমে তাঁর আবেদনপত্র কোন টেবিলে রয়েছে বা কী অবস্থায় আছে, তা বাস্তব সময়ে (Real-time) ট্র্যাক করতে পারবেন।
  • ঝঞ্ঝাটহীন গ্র্যাচুইটি ও পেনশন: অবসর গ্রহণের দিনই বা তার ঠিক পরপরই যাতে কর্মী তাঁর প্রাপ্য গ্র্যাচুইটি এবং প্রথম মাসের পেনশন সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পান, তা নিশ্চিত করবে এই ব্যবস্থা।
  • দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ বন্ধ: ফিজিক্যাল ফাইলের জট দূর হওয়ায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আর বিকাশ ভবন, ট্রেজারি বা বিভিন্ন সরকারি অফিসে বারবার চক্কর কাটতে হবে না।

কারা সুবিধা পাবেন?

এই ই-পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আসবেন রাজ্যের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারী, পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠানের কর্মী, পুরসভা, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত লাইব্রেরি এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী ও শিক্ষকরা।

নবান্ন সূত্রের খবর, সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে প্রতি বছর হাজার হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী উপকৃত হবেন এবং তাঁদের অবসরের পর আর্থিক সুরক্ষা বজায় রাখা অনেক সহজ হবে।

Leave a Comment