প্রথম দুই কন্যা সন্তান পাবে ৫০ হাজার টাকা! নারীশিক্ষায় জোর দিতে রাজ্য সরকারের বড় পদক্ষেপ

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: দেশের কন্যা সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এবং নারীশিক্ষার প্রসারে এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। নতুন এই জনকল্যাণমূলক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের অধীনে পরিবারের প্রথম দুই কন্যা সন্তানকে ধাপে ধাপে মোট ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হবে। মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সাহায্য করা, স্কুল ড্রপআউট রোধ করা এবং বাল্যবিবাহ বন্ধ করাই এই সরকারি উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

প্রকল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা

  • পর্যাযক্রমিক অনুদান: এককালীন আর্থিক সাহায্যের পরিবর্তে কন্যা সন্তানের জন্মের পর থেকে শুরু করে বিদ্যালয় শিক্ষা ও দ্বাদশ শ্রেণী অতিক্রম করা পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে ধাপে এই টাকা দেওয়া হয়।
  • দুই সন্তানের সীমা: একটি পরিবারের প্রথম ও দ্বিতীয় কন্যা সন্তানই কেবল এই প্রকল্পের সুবিধার যোগ্য বিবেচিত হবে।
  • সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার (DBT): সরকারের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সমস্ত আর্থিক ভাতা সরাসরি উপভোক্তা বা তাঁর অভিভাবকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে।

টাকা প্রদানের বিভিন্ন ধাপ

শিক্ষার স্তর / সময়কালআর্থিক সহায়তার উদ্দেশ্য
জন্মের সময় (প্রথম কিস্তি)স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও প্রাথমিক যত্নের জন্য
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরবার্ষিক স্কলারশিপ ও বই-খাতা কেনার খরচ
দ্বাদশ শ্রেণী उत्तीर्णউচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি ও ভর্তি সহায়তা

কারা আবেদন করতে পারবেন?

  • বাসস্থান: আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • পরিবারের সীমা: সুবিধাভোগী পরিবারে সর্বোচ্চ প্রথম দুই কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য।
  • আর্থিক যোগ্যতা: মূলত আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া বা নির্দিষ্ট বার্ষিক আয়ের সীমার মধ্যে থাকা পরিবারের কন্যাসন্তানেরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবে।
  • বৈবাহিক শর্ত: সুনির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত সুবিধা পাওয়ার জন্য কন্যা সন্তানকে অবিবাহিত হতে হবে।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র

১. কন্যা সন্তানের জন্ম সনদ (Birth Certificate)

২. অভিভাবক ও কন্যার আধার কার্ড

৩. পারিবারিক আয়ের প্রমাণপত্র

৪. ব্যাঙ্ক পাসবুকের প্রথম পাতার কপি

৫. স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণপত্র (রেশন কার্ড / ভোটার কার্ড)

৬. বর্তমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি বা স্টাডি সার্টিফিকেট

কীভাবে আবেদন করবেন?

  • অনলাইন আবেদন: রাজ্য সরকারের অফিসিয়াল ওয়েব পোর্টালে গিয়ে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
  • অফলাইন আবেদন: স্থানীয় দুয়ারে সরকার ক্যাম্প, ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের (BDO) কার্যালয় বা স্থানীয় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে গিয়ে ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া সম্ভব।

রাজ্য সরকারের এই সময়োপযোগী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথ সুগম হবে এবং সমাজে কন্যা সন্তানের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরা।