জরুরি অবস্থার সংগ্রামীদের বড় সম্মান: এবার মাসিক ১০,০০০ টাকা ভাতা, ফ্রি বাস সফর ও বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা
বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা: ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে যাঁরা কারাবরণ করেছিলেন, সেই সমস্ত ‘লোকতন্ত্র সেনানী’দের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতি জানাতে ঐতিহাসিক একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত ‘পশ্চিমবঙ্গ লোকতন্ত্র সেনানী সম্মান’ প্রদান অনুষ্ঠানে স্বয়ং এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের শুভ সূচনা করা হয়।
গণতন্ত্র রক্ষায় সংগ্রামীদের অসামান্য আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে জানানো হয়, তাঁদের দীর্ঘদিনের লড়াইকে যথাযথ মর্যাদা দিতেই রাজ্য সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগ।
প্রকল্পের প্রধান সুবিধা ও আর্থিক সহায়তা
এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের অধীনে চিহ্নিত লোকতন্ত্র সেনানীরা নিম্নলিখিত রাজ্য সরকারের সুবিধাগুলি সরাসরি পাবেন:
- মাসিক ভাতা: সম্মান স্মারক হিসেবে প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা করে সরাসরি প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে প্রদান করা হবে।
- বিনামূল্যে পরিবহণ: রাজ্য পরিবহণ নিগমের (SBSTC, NBSTC, WBTC ইত্যাদি) সমস্ত সরকারি বাসে বিনামূল্যে ভ্রমণের জন্য বিশেষ পাস দেওয়া হবে।
- বিনামূল্যে সরকারি চিকিৎসা: রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিনামূল্যে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন তাঁরা।
- পরিবারের সুরক্ষা: কোনো সেনানী ইতঃপূর্বে প্রয়াত হয়ে থাকলে কিংবা পরবর্তীতে প্রয়াত হলে, তাঁর জীবিত স্বামী বা স্ত্রী এই মাসিক ভাতা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
উপকৃ্ত হবেন কারা?
১৯৭৫ সালের ২৫ জুন দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর যে সমস্ত প্রতিবাদী মানুষ রাজপথে নেমে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন, তাঁদেরকেই ‘লোকতন্ত্র সেনানী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- প্রাথমিক তালিকা: রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ৩২৫ জন আন্দোলনকারীকে এই সম্মাননার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
- স্মারক প্রদান: নবান্নের মঞ্চ থেকে চিহ্নিত সেনানীদের হাতে তাম্রপদক, মানপত্র ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, জরুরি অবস্থার সময় সারা দেশে প্রায় ১ লক্ষ মানুষকে বন্দি করা হয়েছিল, যার মধ্যে কেবল পশ্চিমবঙ্গ থেকেই ছিলেন প্রায় ৫ হাজার প্রতিবাদী মানুষ।
পাঠ্যক্রম সংস্কার ও শ্যামাপ্রসাদ স্মারক কমিটি
লোকতন্ত্র সেনানীদের সম্মানের পাশাপাশি ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে সচিবালয়ে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়। এই কমিটি রাজ্যের পাঠ্যপুস্তকের সিলেবাস পর্যালোচনা করবে, যাতে আগামী প্রজন্ম শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান এবং বঙ্গভঙ্গের সঠিক ঐতিহাসিক তথ্য সম্পর্কে বিশদে জানতে পারে।
