পশ্চিমবঙ্গে ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর শুভ সূচনা: জানুন কীভাবে আবেদন করবেন এবং কী কী সুবিধা পাবেন
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর, পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat – PMJAY) চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছেন। নবান্নে আয়োজিত এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজ্যের মানুষের স্বাস্থ্যের অধিকার সুনিশ্চিত করাই তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মূল সুবিধাগুলি
তদিন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পের সুবিধা পেতেন, তবে অনেক ক্ষেত্রে ভিন রাজ্যে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। আয়ুষ্মান ভারত চালু হওয়ায় যে সুবিধাগুলি পাওয়া যাবে:
১. ৫ লক্ষ টাকার বিমা: প্রতিটি তালিকাভুক্ত পরিবার বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। ২. সারা ভারতে চিকিৎসা: এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর ‘পোর্টেবিলিটি’। এখন থেকে বাংলার রোগীরা দিল্লির AIIMS, ভেলোর বা মুম্বাইয়ের যেকোনো নামী সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে (যা প্রকল্পের আওতায় আছে) বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন। ৩. গুরুতর রোগের চিকিৎসা: ক্যানসার, হার্টের অস্ত্রোপচার, কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট থেকে শুরু করে জটিল সব রোগের চিকিৎসা এই বিমার আওতাভুক্ত। ৪. হাসপাতালে ভর্তির খরচ: হাসপাতালে ভর্তির ৩ দিন আগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ছুটি হওয়ার পরবর্তী ১৫ দিনের ওষুধ ও চিকিৎসার খরচ সরকার বহন করবে। ৫. কোনো বয়সসীমা নেই: পরিবারের সদস্য সংখ্যা বা বয়সের কোনো ঊর্ধ্বসীমা এই প্রকল্পে নেই।
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের যোগ্যতা এবং আবেদনের পদ্ধতি
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে, স্বাস্থ্য সচিবকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সাথে দ্রুত মৌ (MoU) স্বাক্ষর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপনার পরিবারের নাম এই তালিকায় আছে কি না বা কীভাবে আবেদন করবেন, তা নিচে দেওয়া হলো:
- অনলাইন পোর্টাল: আপনি সরাসরি
mera.pmjay.gov.inওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার মোবাইল নম্বর এবং আধার/রেশন কার্ড দিয়ে চেক করতে পারেন যে আপনার পরিবার এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত কি না। - আবেদন কেন্দ্র: রাজ্য সরকার শীঘ্রই প্রতিটি পঞ্চায়েত ও পৌরসভা এলাকায় ‘আয়ুষ্মান ক্যাম্প’ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এছাড়া স্থানীয় Common Service Centre (CSC) থেকে এই কার্ডের জন্য কেওয়াইসি (KYC) করা যাবে।
- প্রয়োজনীয় নথি: আধার কার্ড, ডিজিটাল রেশন কার্ড এবং পরিবারের প্রধানের একটি পরিচয়পত্র।
মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ বার্তা: প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানান, “এই সরকার ইগোর ওপর চলে না, আদর্শের ওপর চলে।” তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, রাজ্যে চলমান কোনো জনকল্যাণমুখী প্রকল্প (যেমন স্বাস্থ্য সাথী) হুট করে বন্ধ করা হবে না, তবে সব প্রকল্পকে আরও স্বচ্ছ এবং উন্নত করা হবে। যাতে কোনো অযোগ্য ব্যক্তি বা অনুপ্রবেশকারী সরকারি সুবিধা না পায়, সেদিকে কড়া নজর রাখা হবে।
পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কার্যকর হওয়া রাজ্যের সাধারণ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য একটি বড় জয়। মুখ্যমন্ত্রীর এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বাংলার স্বাস্থ্য পরিষেবাকে জাতীয় স্তরে পৌঁছে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

