অন্নপূর্ণা যোজনায় বাদ ২৬ লক্ষ নাম! ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারীরা কি টাকা পাবেন? স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী

Please Share With Your Friends

কলকাতা, ১ জুলাই ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারের নারী কল্যাণমূলক ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Bhandar) (যা পূর্বতন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের পরিবর্ধিত রূপ) নিয়ে বড়সড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত উপভোক্তাদের শংসাপত্র প্রদান অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, স্ক্রুটিনির পর কত আবেদন বাতিল হয়েছে এবং কারা এই প্রকল্পের টাকা পেতে থাকবেন।

কতজনের নাম বাদ পড়ল এবং কেন?

মুখ্যমন্ত্রী জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য মোট ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। তার মধ্যে কড়া যাচাইকরণের (স্ক্রুটিনি) পর ২৬ লক্ষ আবেদনপত্র বাতিল করা হয়েছে

আবেদন বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন:

  • পূর্বতন সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা প্রায় ২ কোটির কাছাকাছি অ্যাকাউন্টে যেত।
  • বর্তমান সরকারের বিশেষ সমীক্ষায় (SIR 2026) দেখা গেছে, প্রায় ২৭ লক্ষ এমন নাম রয়েছে যাঁরা ভারতীয় নন, ভোটার তালিকায় নাম নেই, ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করেছেন, মৃত কিংবা একাধিক জায়গায় নাম তুলে রেখেছেন।
  • জনগণের করের টাকা কোনোভাবেই বেআইনি বা অ-ভারতীয়দের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না বলেই এই ২৬ লক্ষ ফর্ম বাতিল করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারী বা CAA-তে আবেদনকারীরা কি টাকা পাবেন?

যাঁদের নাম ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বাদ পড়েছে, কিন্তু তাঁরা নিজেদের নাগরিকত্ব বা ভোটার তালিকায় নাম পুনর্বহালের জন্য আইনি লড়াই লড়ছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ কী? এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য প্রশাসনের নির্দেশিকায় বড়সড় স্বস্তি দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার পর যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে সাময়িকভাবে বাদ গেছে, কিন্তু তাঁরা এসআইআর ট্রাইব্যুনালে (SIR Tribunal) আপিল করেছেন অথবা সিএএ (CAA)-র অধীনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানিয়েছেন, তাঁদের আবেদন নিষ্পত্তি (Disposal) না হওয়া পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনার মাসিক ৩,০০০ টাকা দেওয়া বন্ধ হবে না। তাঁরা নিয়মিত এই আর্থিক সহায়তা পাবেন।

১২ পাতার ফর্ম নিয়ে বিতর্কের জবাব

অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য দেওয়া ১২ পাতার লম্বা আবেদনপত্র নিয়ে বিরোধী দলগুলির সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, এই ফর্মে অনেক পাতা রয়েছে যেখানে আবেদনকারীদের কিছু লেখার প্রয়োজন নেই, শুধু নির্দেশিকা রয়েছে।

See also  ঘরে বসেই মোবাইল ফোনে দেখুন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর টাকা ঢোকার স্ট্যাটাস! পোর্টালে এল ম্যাজিক অপশন

তাছাড়া, একবার এই ফর্মে তথ্য আপলোড হয়ে গেলে, উপভোক্তাদের ডেটা সরকারি পোর্টালে স্থায়ীভাবে নথিভুক্ত হয়ে যাচ্ছে। এর সুবিধা হলো— আগামী দিনে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের অন্যান্য কোনও প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার জন্য মহিলাদের আর নতুন করে কোনও ফর্ম ফিলাপ করতে হবে না। এই একটি ফর্মের ডেটা দিয়েই সমস্ত সুবিধা পাওয়া যাবে।

সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বুধবার রাত ১২টার মধ্যে সমস্ত যোগ্য আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে। এছাড়াও আগামী কয়েক মাস ধরে এই প্রকল্পের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সচল থাকবে যাতে কোনও যোগ্য আবেদনকারী বাদ না পড়েন।

আজই ১ কোটির বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে ঢুকল টাকা

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঝাড়াই-বাছাইয়ের পর ১ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি আবেদনকারী যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন। আজ (১ জুলাই) দুপুর ১টা নাগাদ প্রথম দফায় ১ কোটি ৯ লক্ষ ৯২ হাজার ৩৭৮ জন মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি (DBT-এর মাধ্যমে) ৩,০০০ টাকা করে ট্রান্সফার করা হয়েছে।

বাকি যোগ্য উপভোক্তাদের নামও পোর্টালে আপলোড হওয়ার সাথে সাথে আজ রাত ১২টার মধ্যে টাকা অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। এই প্রকল্পে প্রতি মাসে রাজ্যের ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী (যাঁরা আয়কর দাতা বা সরকারি কর্মী নন) যোগ্য মহিলারা ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।

Author


Please Share With Your Friends