নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর। রাজ্যজুড়ে আয়োজিত বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’-এর সময়সীমা আরও একদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১৫ই জুন থেকে শুরু হওয়া এই মেগা শিবিরের মেয়াদ ১৭ই জুন (বুধবার) শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শিবিরগুলিতে বিপুল জনসমাগম এবং সাধারণ মানুষের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ১৮ই জুন (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত করা হয়েছে। মাত্র আড়াই দিনেই এই শিবিরে প্রায় ২৬ লক্ষের বেশি মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
নবান্ন ও রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রান্তিক ও গ্রামীণ এলাকার বহু মানুষ যাতে কোনোভাবেই সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই উদ্দেশ্যেই এই অতিরিক্ত একদিন সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
কেন এই সময়সীমা বৃদ্ধি?
রাজ্যজুড়ে প্রায় ১,১০০টি শিবিরে প্রথম দিন থেকেই সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও মহকুমা স্তরের শিবিরগুলিতে সকাল থেকেই ফর্ম জমা দেওয়া ও নথি যাচাইয়ের জন্য দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে। প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, “নথি স্ক্রুটিনি (পরীক্ষা) এবং নতুন আবেদন জমা নেওয়ার চাপ এতটাই বেশি যে, নির্দিষ্ট ৩ দিনের মধ্যে সবার কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছিল না। প্রতিটি যোগ্য মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দিতেই এই মেয়াদ বাড়ানো হলো।” বর্ধিত দিনেও প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই শিবিরগুলি খোলা থাকবে।
এক ছাতার নিচে ৫৪টি প্রকল্প
এই জনকল্যাণ শিবিরের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সম্মিলিত ৫৪ থেকে ৫৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সুবিধা ও পরিষেবা সরাসরি একটি ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
শিবিরের মূল ফোকাসে রয়েছে:
- মহিলা ও সামাজিক সুরক্ষা: ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (Annapurna Bhandar) যোজনার ফর্ম ফিলাপ ও নাম নথিভুক্তকরণ।
- কৃষক ও শ্রমজীবী কল্যাণ: পিএম কিষান সম্মান নিধি (PM-Kisan), কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC), এবং পরিযায়ী শ্রমিক যোজনার সুবিধা।
- স্বাস্থ্য ও বিমা: আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat), প্রধানমন্ত্রী জীবনজ্যোতি বীমা যোজনা এবং শিবিরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিশেষ পরিকাঠামো।
- নথি সংশোধন ও অন্যান্য: আধার কার্ডের সঙ্গে রেশন কার্ড লিঙ্ক, আধার সংশোধন এবং জমির রেকর্ড বা পাট্টা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান।
প্রশাসনের কড়া নজরদারি
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ার একটি শিবির পরিদর্শনে গিয়ে এই মেগা কর্মসূচির তদারকি করেন এবং নতুন সরকারের পাঁচ সপ্তাহের কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রশাসন সর্বদা তৎপর এবং আবাসন যোজনা থেকে বঞ্চিতদের জন্য বিশেষ টোল-ফ্রি নম্বরও চালু করা হয়েছে।
বর্ধিত দিনেও তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি শিবিরে পানীয় জল এবং ছায়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনগুলিকে। সাধারণ মানুষ যাতে তাঁদের নিকটবর্তী শিবিরের অবস্থান জানতে পারেন, তার জন্য সরকারের অফিশিয়াল পোর্টাল (jks.wb.gov.in) চালুর পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে মাইকিং করে প্রচার চালানো হচ্ছে।
