যুবশক্তি প্রকল্পে ৩০০০ টাকা পেতে বড় নিয়ম! এই সার্টিফিকেট কোথায় পাবেন? জেনে নিন ঝটপট

Please Share With Your Friends

রাজ্যের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এক বড়সড় ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্য বাজেটের ঘোষণা অনুযায়ী, বেকারদের জন্য খুব শীঘ্রই চালু হতে চলেছে ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ প্রকল্প। এই কর্মসূচির আওতায় স্নাতক উত্তীর্ণ কর্মহীনরা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা এবং অন্যান্য যোগ্য বেকাররা মাসে ২,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। সরাসরি আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই ভাতার টাকা পাঠানো হবে।

তবে এই প্রকল্পের সুবিধা বা মাসিক ৩,০০০ টাকা পেতে গেলে আবেদন করার সময় একটি বিশেষ শংসাপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেটি হলো—‘প্রভিশনাল ডিগ্রি সার্টিফিকেট’ (Provisional Degree Certificate) বা অরিজিনাল ডিগ্রি সার্টিফিকেট। এই খবর চাউর হতেই রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাক্তন পড়ুয়াদের ভিড় উপচে পড়ছে। আপনি যদি একজন স্নাতক হন, তবে এই সার্টিফিকেট কোথায় এবং কীভাবে পাবেন, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

প্রভিশনাল ডিগ্রি সার্টিফিকেট কী এবং কেন প্রয়োজন?

সাধারণত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চূড়ান্ত সেমিস্টার পাস করার পর মূল বা অরিজিনাল ডিগ্রি সার্টিফিকেট হাতে পেতে বেশ কিছুটা সময় লাগে। এই মধ্যবর্তী সময়ে পড়ুয়ারা যাতে চাকরি বা কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি সাময়িক শংসাপত্র দেয়। একেই বলা হয় ‘প্রভিশনাল ডিগ্রি সার্টিফিকেট’। যুবশক্তি প্রকল্পে উচ্চশিক্ষিত তথা গ্র্যাজুয়েট ক্যাটাগরিতে ৩,০০০ টাকা পেতে এই নথিটি যাচাই করা আবশ্যিক করা হচ্ছে।

সার্টিফিকেটটি কোথায় পাবেন?

আপনি যে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়াশোনা শেষ করেছেন, সেই নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় (University) বা কলেজের প্রশাসনিক বিভাগ থেকেই এই প্রভিশনাল ডিগ্রি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে।

কীভাবে আবেদন করবেন ও কী কী লাগবে?

1.আবেদন ফর্ম সংগ্রহ ও পূরণ:ধাপ ১.

সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট প্রভিশনাল সার্টিফিকেট পাওয়ার ফর্মটি সংগ্রহ করতে হবে। ফর্মে নিজের নাম, রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং পাসের বছর সঠিকভাবে পূরণ করুন।

See also  কার বেসিক বেতন ২ লাখ পেরোবে? সপ্তম পে কমিশনের সম্ভাব্য পে-ম্যাট্রিক্স ও ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের হিসেব

2.কলেজ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর (ফরওয়ার্ডিং):ধাপ ২.

স্নাতক বা স্নাতকোত্তর স্তরের পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে এই ফর্মটি প্রথমে নিজের কলেজের অধ্যক্ষ (Principal) অথবা সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানের (HOD) মাধ্যমে ফরওয়ার্ড বা স্বাক্ষর করিয়ে নিতে হবে।

3.ফি বা চালান জমা দেওয়া:ধাপ ৩.

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট ফি জমা দিতে হবে। সাধারণত প্রভিশনাল সার্টিফিকেটের জন্য ৫০০ টাকা এবং অরিজিনাল সার্টিফিকেটের জন্য ১,০০০ টাকার ব্যাঙ্ক চালান কাটতে হয়। চালানের একটি কপি ফিনান্স অফিসে জমা দিতে হবে।

4.নথি যাচাই ও ফর্ম জমা:ধাপ ৪.

ফর্মের সাথে নিজের ফাইনাল সেমিস্টারের অরিজিনাল মার্কশিট, অ্যাডমিট কার্ড এবং রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জেরক্স কপি জুড়তে হবে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট কাউন্টারে গিয়ে সমস্ত মূল নথি যাচাই (Verification) করিয়ে ফর্মটি জমা দিয়ে দিন।

যুবশক্তি প্রকল্পে আবেদনের অন্যান্য যোগ্যতা ও শর্তাবলী:

  • বয়সসীমা: আবেদনকারী যুবক-যুবতীর বয়স ২১ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
  • আবাসিক যোগ্যতা: আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • পারিবারিক আয়: পরিবারের বার্ষিক বা মাসিক আয় নির্দিষ্ট সীমার (পরিবারের মাসিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম) মধ্যে থাকতে হবে।
  • কর্মসংস্থান: আবেদনকারী যেন কোনও সরকারি বা বেসরকারি সংস্থায় স্থায়ীভাবে কর্মরত না থাকেন।
  • অন্যান্য সামাজিক প্রকল্প: আবেদনকারী যদি ইতিমধ্যেই সরকারের অন্য কোনও সামাজিক সুরক্ষা বা বেকার ভাতার সুবিধা পেয়ে থাকেন, তবে তিনি এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।

তাই আপনি যদি যুবশক্তি ভরসা কার্ডের ৩,০০০ টাকা পাওয়ার জন্য যোগ্য হন, তবে আবেদন প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই নিজের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রভিশনাল বা অরিজিনাল ডিগ্রি সার্টিফিকেটটি সংগ্রহ করে হাতের কাছে গুছিয়ে রাখুন।

এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য ও আবেদনের নির্দেশিকা জানতে আপনি Yuva Shakti Form Fill Up Video দেখতে পারেন, যা ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়াটি বুঝতে সাহায্য করবে।

See also  অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে সাধারণ মানুষকে বড় আশ্বাস সরকারের: ‘Application Rejected’ দেখলেই ভয় পাবেন না!

Author


Please Share With Your Friends