বাংলায় শুরু কৃষকবন্ধুর ভেরিফিকেশন, দিতে হবে নতুন আইডি! কীভাবে ফর্ম পূরণ করবেন? জানুন খুঁটিনাটি

Please Share With Your Friends

পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর। রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ‘কৃষক বন্ধু (নতুন)’ প্রকল্পের বিশেষ ফিল্ড ভেরিফিকেশন বা ক্ষেত্রভিত্তিক যাচাইকরণ প্রক্রিয়া। সরকারের উদ্দেশ্য, ভুয়ো আবেদনকারীদের চিহ্নিত করা এবং প্রকৃত কৃষকদের কাছে সঠিক সময়ে আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া। এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় এবার একটি নতুন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কলাম যুক্ত করা হয়েছে— সেটি হলো ‘কৃষক বন্ধু আইডি’ (KB-ID)

ভেরিফিকেশনের ফর্ম (Annexure-I) কীভাবে পূরণ করবেন, কৃষক বন্ধু আইডি কোথা থেকে পাবেন এবং কী কী নথিপত্র লাগবে, তার খুঁটিনাটি তথ্য নিচে দেওয়া হলো।

কৃষক বন্ধু আইডি (KB-ID) কী এবং কোথায় পাবেন?

কৃষক বন্ধু আইডি হলো প্রতিটি নিবন্ধিত কৃষকের একটি নির্দিষ্ট পরিচয় নম্বর। এবার ভেরিফিকেশন ফর্মে এটি লেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই আইডিটি ঘরে বসেই নিজের মোবাইল থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন:

  1. প্রথমে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (krishakbandhu.wb.gov.in) যান।
  2. হোম পেজে থাকা ‘নথিভুক্ত কৃষকদের তথ্য’ (Information of Registered Farmers) অপশনটিতে ক্লিক করুন।
  3. এবার একটি নতুন পেজ খুলবে। সেখানে ড্রপ-ডাউন মেনু থেকে ‘Voter Card’ বা ‘AADHAAR Card’ বেছে নিন।
  4. আপনার ভোটার কার্ড বা আধার কার্ডের নম্বরটি নির্ভুলভাবে লিখে পাশে থাকা ‘Search’ বোতামে ক্লিক করুন।
  5. সার্চ করতেই স্ক্রিনে আপনার সমস্ত তথ্য চলে আসবে। সেখানে একদম প্রথমের দিকেই ‘KBID’ বা কৃষক বন্ধু আইডি দেখতে পাবেন। সেটি খাতায় নোট করে রাখুন, যা আপনার ভেরিফিকেশন ফর্মে লিখতে হবে।

ভেরিফিকেশন ফর্ম (Annexure-I) কীভাবে পূরণ করবেন?

কৃষি দপ্তরের দেওয়া ভেরিফিকেশন ফর্মে কোনো ভুল করা চলবে না। একটি ছোট ভুলে আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা আসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফর্মটি পূরণের ধাপগুলো দেখে নিন:

  • ব্যক্তিগত তথ্য: ফর্মের শুরুতেই আবেদনকারী কৃষকের নাম (ভোটার কার্ড অনুযায়ী), পিতা বা স্বামীর নাম এবং নিজের মোবাইল নম্বর স্পষ্ট অক্ষরে লিখতে হবে।
  • আইডি নম্বর: নির্দিষ্ট বক্সে আপনার কৃষক বন্ধু আইডি (KB-ID), আধার নম্বর এবং ভোটার আইডি (EPIC) নম্বর বসাতে হবে।
  • স্বামী বা স্ত্রীর তথ্য (Spouse Details): এবার ফর্মে একটি নতুন নিয়ম যুক্ত হয়েছে। আবেদনকারীর পাশাপাশি তাঁর স্বামী বা স্ত্রীর নাম, আধার নম্বর এবং ভোটার আইডি নম্বরও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে।
  • জমির বিবরণ: আপনার মোট কত পরিমাণ চাষযোগ্য জমি রয়েছে, তার খতিয়ান নম্বর এবং দাগ নম্বর ফর্মে উল্লেখ করতে হবে।
  • ব্যাঙ্কের বিবরণ: যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকে, সেই ব্যাঙ্কের নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং IFSC কোড খুব সাবধানে পূরণ করুন।
  • ঘোষণাপত্র ও স্বাক্ষর: ফর্মের শেষে একটি ঘোষণাপত্র থাকবে, যেখানে স্পষ্ট করতে হবে যে আপনি কোনো স্থায়ী সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী বা আয়কর দাতা (Income Tax Payer) নন। সবশেষে নিচে নির্দিষ্ট জায়গায় কৃষকের স্বাক্ষর বা বুড়ো আঙুলের ছাপ দিতে হবে।
See also  অন্নপূর্ণা যোজনায় মাসে ৩,০০০ টাকা! কারা আবেদন করতে পারবেন এবং কারা বাদ?

কী কী নথিপত্র (Documents) সাথে দিতে হবে?

ভেরিফিকেশন ফর্মটি পূরণ করার পর তার সাথে নিম্নলিখিত নথির জেরক্স কপি যুক্ত করতে হবে। মনে রাখবেন, এবার স্বামী/স্ত্রীর নথিপত্রও চাওয়া হচ্ছে:

  • আবেদনকারী এবং তাঁর স্বামী/স্ত্রীর আধার কার্ডের জেরক্স
  • আবেদনকারী এবং তাঁর স্বামী/স্ত্রীর ভোটার কার্ডের (EPIC) জেরক্স
  • জমির সাম্প্রতিক পর্চা, খতিয়ান বা আরওআর (RoR)-এর জেরক্স কপি (ভাগচাষীদের ক্ষেত্রে বর্গাদার শংসাপত্র)।
  • আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের প্রথম পাতার জেরক্স (যেখানে নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোড পরিষ্কার দেখা যায়) বা একটি বাতিল চেক (Cancelled Cheque)।
  • আবেদনকারীর সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।

সতর্কতা: এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো পিএম-কিসান (PM-KISAN) ডাটাবেস এবং বাংলার ভূমি পোর্টালের তথ্যের সাথে কৃষক বন্ধুর তথ্য মিলিয়ে দেখা। কোনো ভুল বা ভুয়ো তথ্য দিলে প্রকল্প থেকে নাম বাদ পড়ার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। তাই আপনার এলাকার কৃষি প্রযুক্তি সহায়ক (KPS) বা দুয়ারে সরকার ক্যাম্পের মাধ্যমে ফর্মটি সংগ্রহ করে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে জমা দিন।

Author


Please Share With Your Friends