বাংলায় ২১০০ কোটির বিনিয়োগে টাটা গোষ্ঠী, ইস্পাত ও টেক্সটাইল কারখানায় খুলবে চাকরির দুয়ার

Please Share With Your Friends

কলকাতা: বাংলায় শিল্প ও লগ্নির নতুন অধ্যায়। দীর্ঘ টানাপোড়েন ও অতীত তিক্ততা ভুলে রাজ্যে ফের বড়সড় বিনিয়োগ করতে চলেছে দেশের অন্যতম অগ্রণী শিল্পগোষ্ঠী ‘টাটা’ (Tata Group)। সম্প্রতি বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং এই সুখবরটি জনসমক্ষে এনেছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে প্রায় ২১০০ কোটি টাকার একটি বিশাল বিনিয়োগের প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যার অন্যতম প্রধান অংশীদার হতে চলেছে টাটা গোষ্ঠী।

জোড়া লগ্নির হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলা

নতুন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ২১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ মূলত দুটি বড় প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে:

  • ১,৫০০ কোটি টাকার আধুনিক ইস্পাত কারখানা: ভারী শিল্পের খরা কাটিয়ে রাজ্যে একটি অত্যাধুনিক স্টিল প্ল্যান্ট বা ইস্পাত কারখানা গড়ে তোলা হবে। এই মেগা প্রকল্পের পেছনেই মূলত টাটা গোষ্ঠীর হাত রয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত।
  • ৬০০ কোটি টাকার হোসিয়ারি উৎপাদন ইউনিট: শ্রমনিবিড় বা লেবার-ইনটেনসিভ (Labor-intensive) ক্ষেত্র হওয়ায় এই টেক্সটাইল ও হোসিয়ারি ইউনিটের মাধ্যমে রাজ্যে কয়েক হাজার মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

সিঙ্গুরের অতীত ভুলে নতুন যুগের সূচনা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও শিল্প ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায় ছিল সিঙ্গুর থেকে টাটাদের ন্যানো কারখানার বিদায়। প্রায় দুই দশক পর, রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতে চাইছে নতুন প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন:

“নন্দীগ্রামের মতো গুলি না চালিয়েও রাজ্যে শিল্প আনা সম্ভব। মানুষ এখন স্বেচ্ছায় শিল্পের জন্য জমি দিতে এগিয়ে আসছেন। তাই বড় শিল্পের ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ এখন আর কোনো বাধা নয়।”

শুধু ঐতিহ্যবাহী ভারী শিল্পই নয়, অসমের ধাঁচে বাংলায় যাতে টাটা গোষ্ঠী সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং (Semiconductor Manufacturing) বা ডেটা সেন্টারের মতো অত্যাধুনিক ও উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেত্রেও বিনিয়োগ করে, তার জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্য স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে।

See also  অন্নপূর্ণা যোজনায় মাসে ৩,০০০ টাকা! কারা আবেদন করতে পারবেন এবং কারা বাদ?

লক্ষ্য এক লাখ চাকরি ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ

শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ক্যাবিনেট সাব-কমিটি ইতিমধ্যেই রাজ্যের নতুন শিল্প নীতি (Industrial Policy) খসড়া তৈরির কাজ শুরু করেছে। বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য সিঙ্গল-উইনডো ক্লিয়ারেন্স, ল্যান্ডব্যাংক এবং ৫,০০০ কোটি টাকার ‘ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন ফ্রেমওয়ার্ক’ তৈরি করা হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই রাজ্যের প্রথম শিল্প সম্মেলন বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল সামিট অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে এই নীতি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, টাটা গোষ্ঠীর এই ২১০০ কোটির জোড়া লগ্নি যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের অন্যান্য বড় শিল্পপতিদের কাছেও এক ইতিবাচক বার্তা পাঠাবে। ফলে দীর্ঘদিনের ‘শিল্পবিমুখ’ তকমা ঝেড়ে ফেলে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের এক নতুন দিশা পাবে পশ্চিমবঙ্গ।

Author


Please Share With Your Friends