অন্নপূর্ণা যোজনায় মাসে ৩,০০০ টাকা! কারা আবেদন করতে পারবেন এবং কারা বাদ?

Please Share With Your Friends

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের পরিবর্তে চালু হতে চলেছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনা’ (Annapurna Bhandar Scheme)। এই নতুন প্রকল্পের অধীনে যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। আগামী ১ জুন, ২০২৬ থেকে এই প্রকল্পের অফিশিয়াল পোর্টাল চালু হতে যাচ্ছে।

কাদের আবেদন করতে হবে, কারা এই সুবিধার বাইরে থাকবেন এবং আবেদনের পদ্ধতি কী, তার সম্পূর্ণ বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

কারা আবেদন করতে পারবেন না? (Annapurna Yojana Eligibility Restrictions)

অর্থ দফতর এবং নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিম্নলিখিত ক্যাটাগরির মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না:

  • সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগী: কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার, পঞ্চায়েত, পৌরসভা, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মী অথবা সেখান থেকে নিয়মিত পেনশন পান এমন মহিলারা আবেদন করতে পারবেন না।
  • আয়কর দাতা: আবেদনকারী মহিলা বা তাঁর পরিবার যদি আয়কর (Income Tax) প্রদান করেন, তবে তিনি এই সুবিধার বাইরে থাকবেন।
  • নির্দিষ্ট বয়সসীমার বাইরে: ২৫ বছরের কম এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী মহিলারা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য নন।
  • ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে: আবেদনকারীর নাম পশ্চিমবঙ্গের অফিশিয়াল ভোটার তালিকায় থাকা বাধ্যতামূলক।

বিশেষ দ্রষ্টব্য (লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকদের জন্য): যাঁরা ইতিমধ্যেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন, তাঁদের নতুন করে আবেদন করার কোনও প্রয়োজন নেই। তাঁদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Automatically) এই নতুন অন্নপূর্ণা যোজনায় স্থানান্তরিত বা মাইগ্রেট করে দেওয়া হবে। তবে ২০২৬ সালের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) সময় যাঁদের মৃত, স্থানান্তরিত (Shifted) বা অনুপস্থিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁরা বাদ পড়বেন।

আবেদনের যোগ্যতা (Who Can Apply for Annapurna Yojana)

নতুন করে যাঁরা আবেদন করতে চান, তাঁদের নিচের শর্তগুলি পূরণ করতে হবে:

READ  চলতি অর্থবর্ষ থেকে নতুন আয়কর রেজিমে (New Tax regime) কী সুবিধা আর ছাড় পাবেন জেনে নিন

১. আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা এবং একজন মহিলা হতে হবে।

২. বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।

৩. ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি অবশ্যই নিজস্ব হতে হবে এবং সেটি আধার কার্ডের সাথে লিঙ্ক (DBT Activated) করা থাকা বাধ্যতামূলক।

কী ভাবে আবেদন করবেন? (Application Process for Annapurna Yojana)

১ জুন, ২০২৬ থেকে অনলাইন এবং অফলাইন—দুই মাধ্যমেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

অনলাইন পদ্ধতি:

1.অফিশিয়াল পোর্টালে যান:১ জুন থেকে সক্রিয়.

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্দিষ্ট অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পোর্টাল (https://www.govtschemes.in/annapurna-yojana-west-bengal) অথবা প্রধান সরকারি ওয়েবসাইট (wb.gov.in) ভিজিট করুন।

2.মোবাইল নম্বর যাচাই (OTP):সুরক্ষিত লগ-ইন.

আপনার সচল মোবাইল নম্বরটি দিয়ে ওটিপি (OTP) ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ করে সাইটে লগ-ইন করুন।

3.পরিবারের বিবরণ সংগ্রহ:রেশন কার্ড লিঙ্ক.

আপনার ডিজিটাল রেশন কার্ড নম্বরটি দিলে আপনার রেজিস্টার্ড পরিবারের তথ্য নিজে থেকেই স্ক্রিনে চলে আসবে।

4.ফর্ম পূরণ ও নথিপত্র আপলোড:সঠিক তথ্য দিন.

আধার নম্বর, ভোটার আইডি, এবং আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ (IFSC কোড সহ) নির্ভুলভাবে টাইপ করুন এবং প্রয়োজনীয় নথির স্ক্যান কপি ও পাসপোর্ট সাইজ ছবি আপলোড করুন।

5.সাবমিট ও রেফারেন্স নম্বর সংরক্ষণ:ভবিষ্যতের ট্র্যাকিং.

সব তথ্য মিলিয়ে নিয়ে ফর্মটি ফাইনাল সাবমিট করুন এবং স্ক্রিনে আসা রেফারেন্স নম্বরটি ভবিষ্যতের স্ট্যাটাস চেক করার জন্য লিখে বা প্রিন্ট করে রাখুন।

অফলাইন পদ্ধতি:

আপনার নিকটবর্তী ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্প, বিডিও (BDO) অফিস, পুরসভা (Municipality) অফিস বা পঞ্চায়েত কার্যালয় থেকে বিনামূল্যে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম সংগ্রহ করে, সমস্ত নথির জেরক্স কপি জুড়ে সেখানে জমা দিতে পারবেন।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র (Documents Required for Annapurna Yojana)

আবেদন করার সময় নিচের নথিপত্রগুলি সাথে রাখা জরুরি:

  • আধার কার্ড (Aadhaar Card)
  • ভোটার আইডি কার্ড (Voter ID Card)
  • ডিজিটাল রেশন কার্ড (Ration Card)
  • বাসস্থানের শংসাপত্র (Residence Proof)
  • আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক পাসবুকের প্রথম পাতার ছবি বা ক্যানসেলড চেক (Cancelled Cheque)
  • সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি
READ  পশ্চিমবঙ্গে ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর শুভ সূচনা: জানুন কীভাবে আবেদন করবেন এবং কী কী সুবিধা পাবেন

আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়া

আবেদন জমা পড়ার পর গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রে বিডিও (BDO) বা মহকুমা শাসক (SDO) এবং কলকাতা পুরসভা এলাকার (KMC) ক্ষেত্রে পুর আধিকারিকরা আবেদনপত্র যাচাই করবেন। চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন যথাক্রমে জেলাশাসক (DM) এবং পুর কমিশনার। অনুমোদন পাওয়ার পরেই সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে Direct Benefit Transfer (DBT)-এর মাধ্যমে টাকা ঢুকতে শুরু করবে।


Please Share With Your Friends