ইথানল মেশানো পেট্রল ব্যবহার করলে কি গাড়ির ইনশিওরেন্স ক্লেম আটকে যাবে? বিভ্রান্তি দূর করল কেন্দ্র

Please Share With Your Friends

আজকাল পরিবেশ দূষণ কমাতে এবং জ্বালানি আমদানি কমাতে ভারতের পেট্রল পাম্পগুলোতে ইথানল মিশ্রিত পেট্রল (Ethanol-Blended Petrol বা E20) বিক্রি বাড়ানো হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে পেট্রলে ২০% ইথানল মেশানো। কিন্তু এই উদ্যোগের মাঝেই সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন মহলে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়েছে— “গাড়িতে ইথানল মিশ্রিত পেট্রল (E20) ব্যবহার করলে নাকি দুর্ঘটনার পর বিমা বা ইনশিওরেন্স ক্লেম (Insurance Claim) পাওয়া যাবে না!”

এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গাড়ি ও বাইক মালিকদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। সত্যিই কি ইথানল মিশ্রিত পেট্রল ব্যবহারের কারণে আপনার গাড়ির ইনশিওরেন্স বাতিল হতে পারে? এই বিষয়ে সমস্ত বিভ্রান্তি দূর করে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

কী জানাল কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক?

গ্রাহকদের উদ্বেগ দূর করতে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক (MoRTH) এবং ‘সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স’ (SIAM) যৌথভাবে একটি নির্দেশিকা জারি করে বিষয়টি স্পষ্ট করেছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে সাফ জানানো হয়েছে:

পেট্রল পাম্প থেকে সরকারি নিয়মে সরবরাহ করা ইথানল মিশ্রিত পেট্রল (যেমন E10 বা E20) ব্যবহার করার কারণে কোনো গাড়ির ইনশিওরেন্স ক্লেম বাতিল বা রিজেক্ট করা যাবে না। এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং গুজব।

বিমা সংস্থাগুলি (Insurance Companies) শুধুমাত্র এই কারণে কোনো গ্রাহকের ক্লেম প্রত্যাখ্যান করতে পারে না। যদি কোনো পাম্পে সরকার অনুমোদিত জ্বালানি বিক্রি হয়, তবে তা ব্যবহার করা দেশের প্রতিটি নাগরিকের বৈধ অধিকার।

কেন এই গুজবের সৃষ্টি হয়েছিল?

আসলে, গাড়ির ম্যানুয়াল বা হ্যান্ডবুকে একটি সতর্কবার্তা দেওয়া থাকে। পুরনো অনেক গাড়ির ইঞ্জিনের ম্যানুয়ালে লেখা থাকে যে, একটি নির্দিষ্ট মাত্রার (যেমন ১০% বা E10) বেশি ইথানলযুক্ত জ্বালানি ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের ক্ষতি হতে পারে এবং তার ফলে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি হলে কোম্পানি তার ওয়ারেন্টি (Warranty) দেবে না।

See also  সময়সীমা বাড়ল ‘জনকল্যাণ শিবির’-এর: আরও বেশি মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ

এই ‘ইঞ্জিন ওয়ারেন্টি’ এবং ‘মোটর ইনশিওরেন্স’-এর ধারণাকে গুলিয়ে ফেলেই বাজারে এই ভুয়ো খবর রটে যায়। মনে রাখবেন:

  • ওয়ারেন্টি (Warranty): এটি গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা (যেমন Maruti, Hyundai, Tata) দেয় ইঞ্জিনের নিজস্ব কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির বিরুদ্ধে।
  • ইনশিওরেন্স (Insurance): এটি বিমা সংস্থা দেয় দুর্ঘটনা (Accident), চুরি বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে গাড়ির ক্ষতির বিরুদ্ধে।

আপনার গাড়ি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে, আপনি ট্যাঙ্কে কী পেট্রল ভরেছেন তার সাথে ইনশিওরেন্স ক্লেম পাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

গাড়ি মালিকদের কী মাথায় রাখা উচিত?

কেন্দ্রীয় সরকার আশ্বস্ত করলেও, গাড়ির দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং ইঞ্জিনের সুরক্ষার জন্য গাড়ি চালকদের কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:

  • গাড়ির সামঞ্জস্য (Compatibility): ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসের পর থেকে ভারতে তৈরি প্রায় সমস্ত নতুন গাড়ি এবং বাইক E20 (২০% ইথানল মিশ্রিত) জ্বালানির উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে।
  • পুরনো গাড়ির ক্ষেত্রে: আপনার গাড়িটি যদি অনেক পুরনো হয় (যেমন ২০০৮ বা ২০১০ সালের মডেল), তবে তাতে সরাসরি E20 পেট্রল প্রতিনিয়ত ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের রাবার পাইপ বা কিছু যন্ত্রাংশের ক্ষতি হতে পারে। তবে বর্তমানে সরকার ধাপে ধাপে ইথানলের মাত্রা বাড়াচ্ছে এবং পুরনো গাড়িগুলির সুরক্ষার কথাও মাথায় রাখা হচ্ছে।
  • ভুল জ্বালানি না ভরা: আপনার গাড়ি যদি পেট্রল চালিত হয়, আর আপনি যদি তাতে ডিজেল ভরে ফেলেন, তবেই কেবল বিমা সংস্থা বা গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা দায় নিতে অস্বীকার করতে পারে। কিন্তু সরকার অনুমোদিত পেট্রল ব্যবহারে কোনো বাধা নেই।

শেষ কথা

সোশ্যাল মিডিয়ার এই খবরে কান দিয়ে অযথা আতঙ্কিত হবেন না। কেন্দ্রীয় সরকারের স্পষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী, ইথানল মিশ্রিত পেট্রল ব্যবহারের জন্য আপনার গাড়ির ইনশিওরেন্স ক্লেম আটকানোর কোনো আইনি এক্তিয়ার বিমা সংস্থাগুলির নেই। দেশের আইন মেনে পরিবেশবান্ধব এই জ্বালানি আপনি নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারেন। যদি কোনো বিমা সংস্থা এই অজুহাতে ক্লেম আটকে দেয়, তবে গ্রাহক সরাসরি IRDAI (Insurance Regulatory and Development Authority of India) বা উপভোক্তা ফোরামের (Consumer Court) দ্বারস্থ হতে পারেন।

See also  ‘জিও ট্যাগিং’ প্রযুক্তি নির্ভর ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’ চালু রাজ্যে: পরিচ্ছন্নতায় নজরদারি এবার আরও কড়া

Author


Please Share With Your Friends