রাজ্য সরকারি কর্মীদের আবাসনে বাধ্যতামূলক স্মার্ট মিটার, বিজ্ঞপ্তি জারি নবান্নের

Please Share With Your Friends

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সংস্কার এবং গ্রিড আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে নবান্ন থেকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রের ‘রিভ্যাম্পড ডিস্ট্রিবিউশন সেক্টর স্কিম’ (RDSS) মেনে এই পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।

গত ৩ জুন রাজ্যের সমস্ত সরকারি অফিসে ৩ সপ্তাহের মধ্যে স্মার্ট মিটার বসানোর নির্দেশ দেওয়ার পর, এবার সরকারের তরফ থেকে এই প্রক্রিয়ার পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।

নবান্নের এই সাম্প্রতিক নির্দেশিকা এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মূল তথ্যগুলি নিচে দেওয়া হলো:

১. নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে?

নবান্নের মুখ্যসচিবের কার্যালয় থেকে জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের রাজকোষ (State Exchequer) থেকে যাঁরা বেতন, সাম্মানিক বা পারিশ্রমিক পান, তাঁদের সরকারি আবাসনে (Government Staff Quarters/Colonies) ডোমেস্টিক স্মার্ট ইলেকট্রিক মিটার বসানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এর আওতায় রয়েছেন:

  • রাজ্য সরকারি কর্মচারী।
  • আধা-সরকারি (Parastatal) সংস্থার কর্মী।
  • রাজ্যের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (State PSU), কর্পোরেশন এবং আন্ডারটেকিং-এর কর্মচারী।
  • সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অধ্যাপক এবং শিক্ষাকর্মীবৃন্দ।

২. কেন এই সিদ্ধান্ত?

বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাগুলির আর্থিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করা এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য। প্রথম ধাপে সরকারি অফিস ও সরকারি আবাসনগুলিকে এই প্রি-পেইড/পোস্ট-পেইড স্মার্ট মিটারিং ব্যবস্থার মধ্যে এনে পুরো প্রক্রিয়াটিকে গতিশীল করতে চাইছে রাজ্য। নতুন এই নিয়মটি ১ আগস্ট, ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে চলেছে।

৩. সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতি কী?

সরকারি কর্মচারীদের আবাসন ও অফিসের ক্ষেত্রে এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হলেও, সাধারণ উপভোক্তাদের ব্যক্তিগত বাড়ির ক্ষেত্রে আপাতত স্মার্ট মিটার বসানোর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে।

মাঝখানে সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু হলে, বিল বেশি আসার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ গ্রাহক ও বিরোধী দলগুলি বিক্ষোভ দেখায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ দফতর স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি ক্ষেত্র ছাড়া সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত বসতবাড়িতে আপাতত জোর করে এই মিটার বসানো হবে না।

See also  ‘জিও ট্যাগিং’ প্রযুক্তি নির্ভর ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’ চালু রাজ্যে: পরিচ্ছন্নতায় নজরদারি এবার আরও কড়া

তৈরি হওয়া বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া

নবান্নের এই নতুন নির্দেশিকা আসার পর শিক্ষা মহল ও সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে:

  • ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপের প্রশ্ন: শিক্ষক ও কর্মচারীদের একাংশের দাবি, অফিস পর্যন্ত বিষয়টি ঠিক থাকলেও ব্যক্তিগত কোয়ার্টার বা আবাসনে কোন ধরণের মিটার ব্যবহৃত হবে, তা এভাবে বাধ্যতামূলক করা উচিত নয়।
  • বিল ও প্রিপেইড ভীতি: স্মার্ট মিটারে প্রিপেইড রিচার্জের ব্যবস্থা থাকায় (যদিও পোস্টপেড অপশনও থাকছে) মাসের মাঝামাঝি ব্যালেন্স শেষ হয়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে। এছাড়া বিলিংয়ের স্বচ্ছতা নিয়েও অনেকের মনে ধোঁয়াশা রয়েছে।

প্রশাসনের তরফ থেকে সমস্ত জেলাশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং পুলিশ প্রশাসনকে এই নির্দেশিকা দ্রুত কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

Author


Please Share With Your Friends